বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যুগপৎ কর্মসূচি নিয়ে মোস্তফা মোহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা।
সোমবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে ইডেন কমপ্লেক্সে গণফোরাম কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শেষে দুই দলের নেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে যুগপৎভাবে ১০ দফা আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
তবে, গণমিছিলের আগেরদিন ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণফোরামের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। এরপর আমরা ১০ দফা দাবির প্রতি সমর্থন ও জনগণকে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেই। তখনই ২ জানুয়ারি বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য আমাদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানান, যোগ করেন ওই গণফোরাম নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনে যত রাজবন্দি আছে, কারাবন্দি আছে বিনা অপরাধে বিরোধী মতের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার কারণে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের মুক্তি চাই। জাতির এই সংকটময় মুহুর্তে গণফোরাম ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জনগণের মুক্তির জন্য কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে একমত হয়েছি।
তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সনে দলীয় সরকারের অধীনে যে তামাশার নির্বাচন দেখেছি তারপর আর এ দেশের জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারকে বিশ্বাস করে না। চলমান আন্দোনলকে বেগবান করতে হবে এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা ক্ষমতা দখলের জন্য নয়, জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য এই যুগপৎ আন্দোলনে শামিল হয়েছি।’
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণফোরামের সাথে সংলাপ করেছি। আমারা এই আন্দোলন যখন শুরু করি তখন আমদের আহ্বান ছিল জাতীয় ঐক্যের। সেই জাতীয় ঐক্য আজকে হয়ে গেছে। সরকারের উচ্ছিষ্টভোগী দল ছাড়া যারা পরিবর্তন চায় এবং একটি নিরপেক্ষ সরকার চায় যার অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি- অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন কাদের, সভাপতি পরিষদ সদস্য- অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।